وَدَّ كَثِيرٌ مِّنْ أَهْلِ ٱلْكِتَٰبِ لَوْ يَرُدُّونَكُم مِّنۢ بَعْدِ إِيمَٰنِكُمْ كُفَّارًا حَسَدًا مِّنْ عِندِ أَنفُسِهِم مِّنۢ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمُ ٱلْحَقُّۖ فَٱعْفُوا۟ وَٱصْفَحُوا۟ حَتَّىٰ يَأْتِىَ ٱللَّهُ بِأَمْرِهِۦٓۗ إِنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ (109) وَأَقِيمُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتُوا۟ ٱلزَّكَوٰةَۚ وَمَا تُقَدِّمُوا۟ لِأَنفُسِكُم مِّنْ خَيْرٍ تَجِدُوهُ عِندَ ٱللَّهِۗ إِنَّ ٱللَّهَ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ (110)
অনুবাদঃ ডঃ মুহাম্মদ মুজিবুর রহমান
(১০৯) কিতাবীদের অনেকে তাদের প্রতি সত্য প্রকাশিত হওয়ার পর তারা তাদের অন্তর্হিত বিদ্বেষ বশতঃ তোমাদেরকে বিশ্বাস স্থাপনের পরে অবিশ্বাসী করতে ইচ্ছা করে; কিন্তু যে পর্যন্ত আল্লাহ স্বয়ং আদেশ আনয়ন না করেন সে পর্যন্ত তোমরা ক্ষমা কর ও উপেক্ষা করতে থাক; নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ব বিষয়ের উপর ক্ষমতাবান।
(110) আর তোমরা সালাত প্রতিষ্ঠিত কর ও যাকাত প্রদান কর; এবং তোমরা স্ব স্ব জীবনের জন্য যে সৎকাজ অগ্রে প্রেরণ করেছ তা আল্লাহর নিকট প্রাপ্ত হবে; তোমরা যা করছো নিশ্চয়ই আল্লাহ তার পরিদর্শক।
১০৯-১১০ নং আয়াতের তাফসীর
শান-ই-নুকূল
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, হুহাই বিন আখতাব এবং ইয়াসির বিন আখতাব এই দু’জন ইয়াহুদী মুসলমানদের প্রতি সর্বাপেক্ষা বেশী হিংসা পোষণ করতো। তারা জনগণকে ইসলাম থেকে সরিয়ে রাখতো। তাদের সম্পর্কেই এই আয়াত অবতীর্ণ হয়। কা’ব বিন আশরাফ ইয়াহূদীও এ কাজেই লিপ্ত থাকতো।
ইমাম যুহরী (রঃ) বলেন যে, এই আয়াতটি কা’ব বিন আশরাফের ব্যাপারেই অবতীর্ণ হয়। সে কবিতার মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর দুর্নাম করতো। যদিও তাদের কিতাবে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সত্যতার প্রমাণ বিদ্যমান ছিল এবং সে মুহাম্মদ (সঃ)-এর গুণাবলী সম্বন্ধে সম্যক অবগত ছিল ও তাকে ভালভাবেই চিনতো, আবার যদিও সে এও স্বচক্ষে দেখছিল যে, কুরআন মাজীদ তাদের কিতাবের সত্যতা প্রমাণ করছে এবং এও লক্ষ্য করছিল যে, একজন নিরক্ষর লোক এ কিতাব পাঠ করছেন, যা সরাসরি মুজিযা তথাপি তিনি যে আরবে প্রেরিত হয়েছিলেন শুধুমাত্র এ কারণেই হিংসার বশবর্তী হয়ে সে রাসূলুল্লাহ (সঃ) ও কুরআন পাককে অস্বীকার করেছিল এবং জনগণকে পথভ্রষ্ট করতে আরম্ভ করেছিল। সেই সময় গভীর পরিণামদর্শিতার ভিত্তিতে মহান আল্লাহ মুসলমানদেরকে নির্দেশ দেন যে, তারা যেন ঐ সব ইয়াহূদীকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখে এবং আল্লাহ তাআলার ফায়সালার জন্যে অপেক্ষা করতে থাকে। যেমন আল্লাহ পাক অন্য জায়গায় বলেনঃ “তোমাদেরকে মুশরিক ও কিতাবীদের বহু অপছন্দনীয় কথা শুনতে হবে।
অবশেষে আল্লাহ তা’আলা মুসলমানদেরকে মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার অনুমতি প্রদান করেন। হযরত উসামা বিন যায়েদ (রাঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) ও তাঁর সাহাবীবর্গ (রাঃ) এ আয়াতের উপর অমিল করতঃ মুশরিক ও আহলে কিতাবকে ক্ষমা করতেন এবং তাদের দেয়া কষ্ট সহ্য করতেন। অতঃপর অন্য আয়াত অবতীর্ণ হয় এবং তার ফলে পূর্বের নির্দেশ উঠে যায়। এখন তাদেরকে তাদের প্রতিশোধ গ্রহণ ও আত্মরক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়। আর বদর প্রান্তরে যে প্রথম যুদ্ধ সংঘটিত হয় তাতেই মুশরিকরা ভীষণভাবে পরাজিত হয় এবং তাদের বড় বড় নেতৃবৃন্দের মৃত দেহে ময়দান ভর্তি হয়ে যায়।
.এখন মু’মিনদেরকে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে যে, যদি তারা নামায, রোযা ইত্যাদি ইবাদত সঠিকভাবে পালন করে তবে তাদের পরকালের শাস্তির রক্ষাকবচ ছাড়াও দুনিয়াতেও মুশরিক ও কাফিরদের উপর জয়যুক্ত হওয়ার কারণ হয়ে যাবে। এরপর মুমিনদেরকে বলা হচ্ছে যে, তাদের ভাল কাজের প্রতিদান উভয় জগতেই দেয়া হবে। তার নিকট ছোট, বড়, প্রকাশ্য, গোপনীয়, ভাল ও মন্দ কোন কাজই গোপন থাকে না। মুমিনদেরকে তার আনুগত্যের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্যে এবং তাঁর অবাধ্যতা হতে রক্ষার জন্যেই মহান আল্লাহ এটা বলেছেন। আল্লাহ তা’আলা مُبْصِرْ-এর পরিবর্তে بَصِيْر বলেছেন, যেমন مُبْدِعْ-এর পরিবর্তে بَدِيْع এবং مُوْلِمْ-এর পরিবর্তে اَلِيْم বলেছেন। ইবনে আবি হাতিম (রঃ) কর্তৃক সংকলিত হাদীসসমূহের একটি হাদীসে আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) এই আয়াতে سَمِيْعٌ بَصِيْرٌ পড়তেন এবং বলতেনঃ ‘আল্লাহ তা’আলা প্রত্যেক বস্তুকেই দেখে থাকেন।
