وَإِذَا طَلَّقْتُمُ ٱلنِّسَآءَ فَبَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَأَمْسِكُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ أَوْ سَرِّحُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍۚ وَلَا تُمْسِكُوهُنَّ ضِرَارًا لِّتَعْتَدُوا۟ۚ وَمَن يَفْعَلْ ذَٰلِكَ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُۥۚ وَلَا تَتَّخِذُوٓا۟ ءَايَٰتِ ٱللَّهِ هُزُوًاۚ وَٱذْكُرُوا۟ نِعْمَتَ ٱللَّهِ عَلَيْكُمْ وَمَآ أَنزَلَ عَلَيْكُم مِّنَ ٱلْكِتَٰبِ وَٱلْحِكْمَةِ يَعِظُكُم بِهِۦۚ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّ ٱللَّهَ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيمٌ (231)
অনুবাদঃ ডঃ মুহাম্মদ মুজিবুর
(২৩১) এবং তোমরা যখন স্ত্রীদেরকে তালাক দাও, আর তারা তাদের নির্ধারিত সময়ে পৌঁছে যায়, তখন তাদেরকে নিয়মিতভাবে রাখতে পার অথবা নিয়মিতভাবে পরিত্যাগ করতে পার; এবং তাদেরকে যন্ত্রণা দেয়ার জন্য আবদ্ধ করে রেখনা, তাহলে সীমা লংঘন করবে; আর যে ব্যক্তি এরূপ করে সে নিশ্চয়ই নিজের প্রতি অবিচার করে থাকে। এবং আল্লাহর নিদর্শনাবলীকে বিদ্রুপাচ্ছলে গ্রহণ করনা, তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ এবং তোমাদেরকে উপদেশ দানের জন্য গ্রন্থ ও বিজ্ঞান হতে যা অবতীর্ণ করেছেন তা স্মরণ কর, আর আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রেখ যে, আল্লাহ সর্ব বিষয়ে মহাজ্ঞানী।
অনুবাদঃ ডঃ মুহাম্মদ মুজিবুর রহমান
পুরুষদের নির্দেশ দেয়া হচ্ছে যে,যে তালাকের পর স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেয়ার অধিকার থাকে এই তালাক প্রদানের পর যখন ইদ্দত শেষ হতে চলবে তখন হয় তাদেরকে সত্তাবে ফিরিয়ে নেবে অর্থাৎ ফিরিয়ে নেয়ার উপর সাক্ষী রাখবে এবং সদ্ভাবে বসবাস করার নিয়্যাত করবে অথবা সদ্ভাবে পরিত্যাগ করবে। আর ইদ্দত শেষ হওয়ার পর কোন ঝগড়া-বিবাদ, মতবিরোধ এবং শক্রতা না করেই বিদায় করে দেবে। অজ্ঞতাযুগের জঘন্য প্রথাকে ইসলাম উঠিয়ে দিয়েছে। তা এই যে, তারা স্ত্রীকে তালাক দিতে এবং ইদ্দত শেষ হওয়ার নিকটবর্তী হলেই ফিরিয়ে নিতো। আবার তালাক দিতো এবং পুনরায় ফিরিয়ে নিতো। এভাবে তারা স্ত্রীদের জীবন ধ্বংস করে দিতো। মহান আল্লাহ এটাকে বাধা দিয়ে ঘোষণা করেন যে, যারা এরূপ করে তারা অত্যাচারী।
অতঃপর আল্লাহ তা’আলা বলেন-তোমরা আল্লাহর নির্দেশাবলীকে বিদ্রুপ করো না। একবার রাসূলুল্লাহ (সঃ) আশআরী গোত্রের উপর অসন্তুষ্ট হন। হযরত আবু মূসা আশআরী (রাঃ) তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে এর কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, “এই লোকগুলো কেন বলে আমি তালাক দিয়েছি ও ফিরিয়ে নিয়েছি। জেনে রেখো যে এগুলো তালাক নয়। স্ত্রীদেরকে তাদের ইদ্দত অনুযায়ী তালাক প্রদান কর।’ ভাবার্থ এই বলা হয়েছে যে, সেটি ঐ ব্যক্তি যে বিনা কারণে তালাক দেয় এবং স্ত্রীকে কষ্ট দেয়ার জন্যে ও তার ইদ্দত দীর্ঘ করার জন্যে তাকে ফিরিয়ে নিতেই থাকে। এও বলা হয়েছে যে, এটা ঐ ব্যক্তি যে তালাক দেয় বা আযাদ করে কিংবা বিয়ে করে অতঃপর বলে আমি তো হাসি -রহস্য করে এটা করেছি। এরূপ অবস্থায় এ তিনটি কাজ প্রকৃতপক্ষেই সংঘটিত হয়ে যাবে। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, একটি লোক তার স্ত্রীকে তালাক দেয় অতঃপর বলে, আমি তো রহস্য করেছিলাম। তখন আয়াতটি অবতীর্ণ হয় এবং রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন যে, এটা তালাক হয়ে গেছে। (তাফসীর-ই-ইবনে মিরদুওয়াই)।
হাসান বসরী (রঃ) বলেন যে, মানুষ তালাক দিতো, আযাদ করতো এবং বিয়ে করতে আর বলতো-আমি হাসি-তামাশা করে এটা করেছিলাম। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়। রাসূলুল্লাহ (সঃ) তখন বলেন, যে তালাক দেয়, গোলাম আযাদ করে, বিয়ে করে বা করিয়ে দেয়, তা অন্তরের সাথেই করুক বা হাসি-তামাশা করেই করুক সবই সংঘটিত হয়ে যাবে। (মুসনাদ-ই-ইবনে আবি হাতীম)। এই হাদীসটি মুরসাল এবং মাওকুফ’। কয়েকটি সনদে এটা বর্ণিত আছে। সুনানে আবু দাউদ, জামেউত তিরমিযী ও সুনানে ইবনে মাজাহ্য়ে হাদীস রয়েছে যে, তিনটি জিনিস রয়েছে যা মনের ইচ্ছার সাথেই হোক বা হাসি-রহস্য করেই হোক-সংঘটিত হয়ে যায়। ঐ তিনটি হচ্ছে বিয়ে, তালাক ও রাজ’আত। ইমাম তিরমিযী (রঃ) এটাকে হাসান গরীব বলেছেন।
অতঃপর আল্লাহ তা’আলা বলেন, তোমরা আল্লাহর নিয়ামতসমূহ স্মরণ কর যে, তিনি তোমাদের নিকট রাসূল পাঠিয়েছেন, হিদায়াত ও দলীল অবতীর্ণ করেছেন, কিতাব ও সুন্নাত শিখিয়েছেন, নির্দেশও দিয়েছেন এবং নিষেধও করেছেন ইত্যাদি। তোমরা যে কাজ কর এবং যে কাজ হতে বিরত থাক সব সময়েই আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রেখো যে, আল্লাহ তা’আলা প্রত্যেক প্রকাশ্য ও গোপনীয় বিষয় খুব ভালভাবেই জানেন।
